ফাইবারে অনলাইনে কীভাবে অর্থ উপার্জন করবেন#how to make money online on fiverr
how to make money online on fiverr/ফাইবারে অনলাইনে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায
ফাইবার থেকে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন:
আপনি যদি অনলাইন জগতে নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার
অনেক কাজে লাগবে। অনেকে আছেন ভিডিও দেখে বুঝতে পারে না, আবার
অনেকে বুঝেও সে অনুযায়ী কাজ করতে পারেন না। তাদের জন্য আমার এই
প্রচেষ্টা। চলুন জেনে নেয়া যাক, ফাইবার থেকে কিভাবে অনলাইনে আয়
করব................
ফাইবার :
ফাইবার হলো একটা বিশ্বব্যাপী অনলাইন মার্কেটপ্লেস। যেখানে মানুষ তার দক্ষতা
অনুযায়ী গীগ সাজিয়ে রাখে অর্থাৎ সে কি কি কাজে দক্ষ তার কিছু স্যাম্পল বা
নমুনা সাজিয়ে রাখে। যেমন আপনার যদি কোন দোকান থাকে আর সেখানে
আপনি যেমন ভাবে বিক্রি করার জন্য জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখেন। ঠিক তেমনি
ফাইবার হলো অনলাইনের একটি দোকান যেখানে আপনার মেধা, সময় এবং
দক্ষতা বিক্রি করবেন। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
ফাইবার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে অনেক শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। বিশ্বের যে সকল
মানুষ অনলাইন কাজের জন্য যোগ্য তাদের প্রত্যেকেরই এখানে দোকান সাজিয়ে
রেখেছে। তাদের শ্রম ও মেধা এবং দক্ষতা বিক্রি করার জন্য সবসময় প্রস্তুত হয়ে
আছেন।
শ্রেণীবিভাগ:ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ অনেক শ্রেণীবিন্যাস এর মধ্যে গ্রাফিক্স
ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, রাইটিং এন্ড ট্রানসলেশন, ভিডিও এনিমেশন,
মিউজিক এন্ড অডিও, প্রোগ্রামিং এন্ড টেকনিক, বিজনেস এবং লাইফস্টাইল
রয়েছে
গ্রাফিক্স ডিজাইন:গ্রাফিক্স ডিজাইন এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ হলো:(১) লোগো
(২)ব্র্যান্ড স্টাইল গাইড (৩)ইলাস্ট্রেশন (৪)প্যাটার্ন ডিজাইন (৫)গেম আর্টস (৬)
গ্রাফিক্স ফর স্ট্রিমিং (৭)বিজনেস কার্ড (৮)ওয়েব এন্ড মোবাইল ডিজাইন (৯)
সোশ্যাল মিডিয়া (১০)পোস্টকার্ড ডিজাইন(১১) বুক কভার ডিজাইন(১২)ব্যানার
ডিজাইন(১৩)ফ্লায়ার ডিজাইন ইত্যাদি ইত্যাদি
ডিজিটাল মার্কেটিং:ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ হলো:(১) সোশ্যাল
মিডিয়া মার্কেটিং(২) এস ই ও(৩) পাবলিক রিলেশন(৪) ভিডিও মার্কেটিং(৫)
ইমেইল মার্কেটিং(৬) ডোমেইন রিসার্চ (৭) ভিডিও মার্কেটিং(৮) আফিলিয়েট
মার্কেটিং(৯) মোবাইল মার্কেটিং(১০) ওয়েব ট্রাফিক ইত্যাদি ইত্যাদি
রাইটিং এন্ড ট্রানসলেশন: রাইটিং এন্ড ট্রানসলেশন এর সাব-ক্যাটাগরি
সমূহ হল:(১) আর্টিকেল এন্ড ব্লগ পোস্ট(২)ট্রানসলেশন(৩) ওয়েবসাইট কনটেন্ট (৪)
বুক এন্ড ইবুক রাইটিং(৫) ভয়েস এন্ড মিউজিক রাইটিং(৬) কভার লেটার(৭)
লিঙ্কডইন প্রোফাইল(৮) কেস স্টাডিস(৯) অ্যাড কপি(১০) সেলস কপি (১১)রিসাম
রাইটিং ইত্যাদি
ভিডিও এন্ড অ্যানিমেশন: ভিডিও এন্ড অ্যানিমেশন এর সাব-ক্যাটাগরি
সমূহ হলো:(১) হোয়াইটবোর্ড এন্ড অ্যানিমেটেড এক্সপ্লেয়ার(২) ভিডিও এডিটিং
(৩)শর্ট ভিডিও(৪) এনিমেটেড গিফট(৫) লিরিক্স এন্ড মিউজিক ভিডিও (৬)লোগো
অনিমেশন(৭) ইন্ট্রো এবং আল্ট্রোজ(৮) স্লাইড শো ভিডিও(৯) অ্যাপ্স অ্যান্ড
ওয়েবসাইট প্রিভিউজ (১০)অ্যানিমেশন ফর কিডস (১১)অ্যানিমেশন
ক্যারেক্টার(১২) লোকাল ফটোগ্রাফি ইত্যাদি ইত্যাদি
মিউজিক এবং অডিও: মিউজিক এবং অডিও এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ
হলো:(১) ভয়েস ওভার (২)প্রডিউসার এন্ড কম্পোজার(৩) সিঙ্গার লিস্ট(৪)
অনলাইন মিউজিক (৫)সিঙ্গার এন্ড ভোকালিস্ট(৬) অনলাইন মিউজিক(৭) সং
রাইটার (৮) বিট মারকিং (৯)পডকাস্ট এডিটিং(১০) অডিও অ্যাড প্রডাকশন(১১)
সাউন্ড ডিজাইন (১২)ডায়লগ এডিটিং (১৩)ভোকাল টিউনিং(১৪) ডিজে মিক্সিং
আদার্স
প্রোগ্রামিং এন্ড টেক: প্রোগ্রামিং এন্ড টেক এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ হলো:(১)
ওয়ার্ডপ্রেস (২)ওয়েবসাইট বিল্ডার এন্ড সিএমএস(৩) ই-কমার্স ওয়েব
ডেভেলপমেন্ট(৪) গেম ডেভেলপমেন্ট(৫) মোবাইল অ্যাপস(৬) প্রোগ্রামিং(৭)
ডেক্সটপ অ্যাপস(৮) অনলাইন কোডিং(৯) চ্যাটবট (১০)কনভার্ট ফাইল(১১)
ডাটাবেজ(১২) ওয়ার টেস্টিং ইত্যাদি
বিজনেস: বিজনেস এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ হল:(১) ই-কমার্স ম্যানেজমেন্ট(২)
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট(৩) ডাটা এন্ট্রি(৪) মার্কেট রিসার্চ(৫) বিজনেস প্লান
(৬)প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট(৭) ব্রান্ডিং সার্ভিস(৮) এইচ আর কনসালটেন্ট(৯) লিড
জেনারেশন ইত্যাদি
লাইফস্টাইল: লাইফস্টাইল এর সাব-ক্যাটাগরি সমূহ হল:(১) গেমিং(২)
অনলাইন লেসন (৩)এস্ট্রোলজি এন্ড ফিজিক্স(৪) লাইফ কোচিং(৫) ফিটনেস লেসন
(৬)পার্সোনাল স্টাইলিস্ট (৭)কুকিং লেসন (৮) ভাইরাল ভিডিও (৯)ট্রাভেলিং অন্ড(১০)
আদার্স
এবার আসি প্রক্রিয়াটি কিভাবে করবেন। আপনার ইমেইল দিয়ে প্রথমেই ফাইবারে
একটি একাউন্ট ক্রিয়েট করতে হবে। ফাইবার লিংক: https://www.fiverr.com/
একাউন্ট ক্রিয়েট করার পর আপনাকে দোকান সাজানোর জন্য গিগ অর্থাৎ(
দোকানে দ্রব্যসামগ্রী) অফার তৈরি করতে হবে.যেমন অনেক সময় দোকানে
জিনিসপত্র কিনতে গেলে একটার সাথে একটা ফ্রী কম দামে বিক্রি করে ঠিক
সেইরকম।
তারপর ক্রিয়েট এ নিউ বিগ এ ক্লিক করবেন
👇
এটা আপনাকে পূরণ করতে হবে। প্রত্যেক পেজ পূরণ করা হলে সেভ এন্ড
কন্টিনিউ-তে ক্লিক করতে হবে। এভাবে ৫ নম্বর পেজ পূরণ করা হলে ৬ নম্বর পেজ
পাবলিশ এ ক্লিক করলে আপনার দোকানের পণ্য বিক্রির জন্য তৈরি হয়ে যাবে
অর্থাৎ আপনার গিগ সবাই দেখতে পাবে এবং আগ্রহী কাস্টমার কাজের অর্ডার
করবে
প্রথম পেজ পূরণ করতে হবে আপনার গিগের টাইটেল এবং সাব টাইটেল তারপর
ট্যাগ বসিয়ে সেভ এন্ড কন্টিনিউ ক্লিক করতে হবে.
👇
দ্বিতীয় পেজ, প্রাইসিং অর্থাৎ দাম কত সেটা লিখতে হবে। কত দিনে ডেলিভারি
করবেন তা লিখতে হবে. কি কি কাজ করবেন তা লিখতে হবে.সেভ এন্ড
কন্টিনিউটি ক্লিক করতে হবে
👇
তৃতীয় পেজ আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হল গিগের বর্ণনা মানে
আপনার কাজ, ধরন, বৈশিষ্ট্য এবং আপনি কি কি কাজ করবেন তার বিবরণ দিতে
হবে. কিকি টুলস দিয়ে আপনি কাজ করবেন সেটাও লিখে রাখতে হবে.বিবরণ টা
এমন ভাবে হতে হবে যাতে আপনার উপস্থাপনের উপরে বায়ার কাজ দিয়ে যায়।
👇
চতুর্থ পেজে আপনার কাজ করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে তা লিখতে হবে।
বায়ার সে সমস্ত ডকুমেন্ট আপনাকে সরবরাহ করবে।
পঞ্চম পেজে আপনার গিগের ফটো, ভিডিও এবং পোর্টফোলিও আপলোড দিতে
হবে, যাতে আপনার কাজের প্রমাণ রয়েছে। আপনি যে এই কাজটি করতে পারেন
তার প্রমাণ এই পোর্টফোলিও। সেভ এন্ড কন্টিনিউ তে ক্লিক করবেন তারপরই
আপনি পাবলিশিং ক্লিক করবেন এবং আপনার দোকান পণ্য বিক্রির জন্য তৈরি
হয়ে গেল.
ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। কোন প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা এবং পরামর্শ থাকলে কমেন্টে
লিখে জানানোর অনুরোধ রইল। উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব. ভালো থাকবেন।
আসসালামু আলাইকুম।














